পরের বছরেই রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বাঙালি আবেগে শান দিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে গত কয়েকদিন ধরেই সরব হয়েছে তৃণমূল। বুধবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শহরে মিছিলও হয়। সেই মিছিল থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠে স্লোগান। তার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় আজ শুক্রবার রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ দুর্গাপুরে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জনসভাও করবেন তিনি। সেই সভা থেকে ছাব্বিশের আগে কি বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেড। আজকের সভায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষের জমায়েত করতে চায় বিজেপি। তার জন্য গত কয়েকদিন ধরেই চলছে প্রচার। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চলছে প্রচার। প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলি করছে বিজেপি। কিন্তু এভাবে কত লোককে টেনে আনা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।বৃহস্পতিবারও দুর্গাপুরে চরম তৎপরতা দেখা যায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে। দোকানদার থেকে পথচারীদের মধ্যে হ্যান্ডবিল বিলি করা হয়। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্নিফার ডগ নিয়ে সভাস্থল পরীক্ষা করে পুলিশ। চলে বম্ব স্কোয়াড নিয়ে তল্লাশিও। অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে দুর্গাপুরে নেহরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কপথে পুলিশের তরফে চলে নিরাপত্তার ট্রায়াল রান। আজ দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী। দুর্গাপুরের গান্ধিমোড় থেকে জনসভাস্থল নেহরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রোড শো করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সুত্রের খবর, বিহার থেকে অণ্ডাল বিমানবন্দরে নেমে তিনি সড়কপথেই গান্ধিমোড় আসবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর শুরু হবে রোড শো। রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে বিজেপি কর্মীরা দাঁড়িয়ে ফুল ছুড়ে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রীকে। রোড শোয়ের পর নেহরু স্টেডিয়ামে এসে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। পজানা গিয়েছে, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প, ডিভিসির রঘুনাথপুর ও মেজিয়া কারখানার সম্প্রসারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেলের আসানসোল কলকাতা গ্যাস পাইপ লাইন, দক্ষিণবঙ্গের ঘরে ঘরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস প্রকল্প, জাতীয় সড়কের বেশ কিছু আন্ডারপাস, ওভারব্রিজের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে জনসভায় বক্তব্যও রাখবেন। আজকের অনুষ্ঠানে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের ঐক্যের ছবি ধরা পড়তে পারে বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির দাবি, দলমতনির্বিশেষে সকলকে আমন্ত্রণই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার দুপুরেই দুর্গাপুর পৌঁছে যান। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ, সৌমেন্দু অধিকারী, জ্যোতির্ময় মাহাতোরা সপ্তাহখানেক আগে থেকেই দুর্গাপুর যাতায়াত শুরু করেছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলও গত এক সপ্তাহে দুর্গাপুরে একাধিক বৈঠক সেরেছেন। মোদীর সভার দিন তিনেক আগে থেকে দুর্গাপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্য বিজেপির গোটা নেতৃত্বই প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে হাজির থাকবেন মনে করছে গেরুয়া শিবির। তবে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মোদীর এই জনসভায় শেষ পর্যন্ত যাচ্ছেন কিনা, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।









