বাংলা-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে বিজেপি বিরোধী দলগুলির তরফে এই প্রক্রিয়া নিয়ে তোলা হচ্ছে আপত্তি। যেভাবে ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দ্রুত গতিতে এসআইআরের কাজ হচ্ছে, তা নিয়েই মূলত আপত্তি বিরোধীদের। এই আবহেই এবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আগে যে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে, সেই তুলনায় সাত দিন পিছিয়ে গিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছিল আগে। তা পিছিয়ে এবার ১৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও দেরিতে বেরোবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি, তা পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি হল। তবে শুধুমাত্র বাংলাতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২ রাজ্যেই পিছিয়ে গেল তালিকা প্রকাশের দিন। এসআইআরের এনিউমারেশন ফর্মের ডেডলাইন ৪ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই এই সময়সীমা পিছিয়ে গেল। কমিশনের সূত্রে খবর, কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া বিভিন্ন কারণে ধীর গতিতে চলছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়া এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে। তার মধ্যে বুথ ব্যবস্থাপনাও সেরে ফেলতে হবে। ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার কাজ। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ ডিসেম্বর। তার পর সেই তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ, আপত্তি কমিশনে জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।খসড়া তালিকার সমস্ত আপত্তি, অভিযোগ এবং দাবি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা এবং আলোচনার সাপেক্ষে সন্দেহ দূর করার কাজ ইআরও-রা করবেন ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা ভাল করে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত করার জন্য কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। তার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। বিএলও’রা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছেন। তা পূরণের পর আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করেছেন। এই কাজে তাঁদের সাহায্য করেছেন বিভিন্ন দলের বিএলএ বা বুথ স্তরের এজেন্ট। ভোটারদের কাছ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করার পর তা কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা বিএলও-দের দায়িত্ব। তাঁদের আপলোড করা তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। বাংলা-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসআইআর-এর কাজ নিয়ে সরব হয়েছেন বিএলও-রা। কোনও জায়গা থেকে বিএলও’র মৃত্যুর খবর সামনে আসছে, কোথাও আবার বিএলও’র অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ, এসআইআর-এর জন্য দীর্ঘ সময় বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের। এতে শারীরিক এবং মানসিক চাপ বাড়ছে। এসআইআর নিয়ে কাজের চাপ যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে বিএলও-রাও প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। বার বার দিন পিছনোর দাবি উঠছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকেও। সময়সীমা বাড়ানোর দাবি উঠছিল লাগাতার। সেই আবহেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছোল কমিশন। আর তার জেরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও পিছোল। কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা যদিও প্রকাশ করেনি কমিশন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ সামনে আসছিল যে, কয়েক লক্ষ ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি, ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সেই কারণেই দিন পিছনো হল কি না, শুরু হয়েছে জল্পনা। বিএলওদের তরফে বার বার বলা হচ্ছিল যে, অনেক চাপ এসে পড়েছে। এখনও কাজ শেষ হয়নি, ডিজিটাইজেশন শেষ হয়নি। পাশাপাশি, প্রযুক্তিগত বাধাবিপত্তির সম্মুখীনও হতে হচ্ছিল বিএলওদের। এসআইআর নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে কেন, প্রশ্ন তুলছিল তৃণমূল-সহ অন্য বিজেপি বিরোধী দলগুলিও। বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল নির্বাচন কমিশনকে। সেই আবহে রাজ্যে ১২ জন অবজার্ভার এবং স্পেশাল রোল অবজার্ভার পাঠানো হয় রাজ্যে। সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তাঁরা। আর তার পরই দিন পিছনোর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত বিএলও-দের দাবিই বৈধতা পেল বলে মনে করা হচ্ছে।









